বাংলাদেশে অনেক স্পোর্টি বাইক রয়েছে ।আধুনিকতার ছোয়া পাওয়ায় উন্নতমানের মোটরসাইকেলের প্রতি গ্রাহকদের প্রতিনিয়ত আকর্ষণ বেড়ে চলেছে।যার মধ্যে গ্রাহকদের এই আটটি বাইক নজর কেরে নিয়েছে-
১.Honda CBR 150R: হোন্ডার অন্যতম একটি স্টাইলিশ বাইক।বাংলাদেশে তুলনামুলক দাম বেশি হলেও বাইকের স্টাইলের ভাব আসাধারন। Suzuki GSX R150,Yamaha R15 v3 এই বাইকটি শক্ত প্রতিযোগী।
বাইকটিতে একটি 149.4 সিসি ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছে যা লিকুইড-কুল্ড, 4-স্ট্রোক, 4-ভালভ, ডিওএইচসি, এসআই ইঞ্জিন। এর জ্বালানী পদ্ধতিতে জ্বালানী ইনজেকশন, এটিতে একটি 6 গতির গিয়ার রয়েছে এবং এর সামগ্রিক গতি প্রতি ঘন্টায় 134 কিলোমিটার। মোট 13 লিটার জ্বালানী ক্ষমতা, যা প্রতি লিটারে গড়ে 40 কিলোমিটার চালাতে সক্ষম।
২.Suzuki GSX R150:বাংলাদেশের বাইক বাজারে ১৫০ সিসি বিভাগে সুজুকির অন্যতম আবিস্কার।সুজুকি ইন্দোনেশিয়ায় প্রথম যাত্রা শুরু করে।বাইকটির মূল আকর্ষন হচ্ছে এটির অসাধারণ স্পোর্টি লুক এবং এটির ইঞ্জিন দক্ষতা।বাইকটিতে ফুয়েল ইনজেক্টেড, ওয়াটার কুলড ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছে। বাংলাদেশে অন্যান্য ১৫০ সিসি বাইকের তুলনাই কম।যাদের বাজেট কম তারা এই বাইকটি পারফেক্ট।
Suzuki GSX R150 এবং GSX S150 বাহ্যিক গঠনে পার্থক্য থাকলেও এতে একই ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছে। GSX S150 এর তুলনায় GSX R150 বেশি স্পোর্টি লুক এবং আধুনিক সুবিধা সম্বলিত, এবং বাংলাদেশে এগুলোর দামেও রয়েছে যথেষ্ট পার্থক্য। দুটি বাইকেই ১৪৭.৩ সি সি ইঞ্জিন, যার সর্বোচ্চ ক্ষমতা 18.90 Bhp @ 10,500 rpm, এবং সর্বোচ্চ ঘূর্ণন বল 14 NM @ 9000 rpm। এটি Single cylinder, liquid-cooled, 4-Stroke, 4-Valve ইঞ্জিন। এটিতে fuel-injection জ্বালানি পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে, যা ভাল মাইলেজে ভূমিকা রাখে।
৩.Aprilia RS4 125: এটি বিখ্যাত ইটালিয়ান বাইক প্রস্তুতকারী কোম্পানি Aprilia এর sports বাইকের একটি মডেল।এটি বাংলাদেশে বাজারের মুল্য তুলানামুলক আনেক বেশি। এই কোম্পানির বাইক বিশ্বব্যাপী পাওয়া যায়।
এ বাইকটিতে ১২৪.২ সি সি Fuel Injection ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছে যা, Aprilia Single-Cylinder, 4 Stroke, Fuel Injection, Liquid-Cooled। এটির সর্বোচ্চ শক্তি 14.8 BHP @ 10500 rpm এবং সর্বোচ্চ ঘূর্ণন বল 10.9 NM @ 8250 rpm। এতে ৬ গতির ম্যনুয়াল গিয়ার ব্যবহার করা হয়েছে।বাইকের সর্বোচ্চ গতি প্রতি ঘন্টায় ১২২ কিলোমিটার।১৪.৫ লিটার জ্বালানী ধারন ক্ষমতা সম্পন্ন।এই বাইকটি প্রতি লিটার জ্বালানীতে গড়ে প্রায় ৩০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে।
৪.KTM RC 125:এটি Austrian বাইক প্রস্তুতকারী কোম্পানী KTM এর RC সিরিজের একটি প্রাথমিক বাইক। আধুনিকতার কথা বিভেষনা করে প্রস্তুত করা হওয়াতে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি লাফ করেছে। এই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশেও আমদানি করা হয়। KTM RC 125 বাংলাদেশে এটির মূল্য তুলনামূলক একটু বেশি হলেও ব্যবহার কারিদের পছন্দের বাইক।KTM RC 125, ভারতীয় এবং ইউরোপিয়ান মডেলের পাওয়া যায়।দামের মধ্যেও পার্থক্য রয়েছে।
এ বাইকটিতে ১২৪.৭ সি সি ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছে যা, Single Cylinder, 4-Stroke Engine, এবং Water-Cooled। এটির সর্বোচ্চ শক্তি (14.8 Bhp) 15 HP @ 9500 rpm এবং সর্বোচ্চ ঘূর্ণন বল 11.8 Nm @ 8000 rpm উৎপন্ন করতে সক্ষম। এতে ৬ গতির ম্যানুয়েল গিয়ার ব্যবহার করা হয়েছে, এবং এটির সর্বোচ্চ গতি ১২৫ কিলোমিটার প্রতি ঘন্টায়।১০ লিটার জ্বালানী ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন এ বাইকটি প্রতি লিটার জ্বালানীতে গড়ে প্রায় ৪০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে।
৫.Kawasaki Ninja 125: Kawasaki বাইক ভারী স্পোর্টস বাইক থেকে শুরু করে প্রাথমিক স্তরের স্পোর্টস বাইকগুলিরও বিপুল সুপরিচিতি রয়েছে।ফলে বিশ্বব্যাপী বাইকেরদের Kawasaki বাইকের চাহিদা রয়েছে।মোটরসাইকেলের ইঞ্জিন সিসি সীমাবদ্ধতার কারণে বাংলাদেশে "Kawasaki Ninja 125" পাওয়া যায়।Kawasaki Ninja 125 জাপানি নির্মাতা কাওয়াসাকি এর Ninja স্পোর্ট বাইক সিরিজের একটি প্রারম্ভিক মোটরসাইকেল যা ২০১৮ সালে প্রথম চালু হয়েছিল। বাংলাদেশে বাজার মুল্য অন্ন্যান্য ১৫০ সিসি বাইকের মুল্যর কাছাকাছি।
বাইকটিতে 125 সিসি ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছে যা লিকুইড কুলড, 125 সিসি, সিঙ্গল সিলিন্ডার। এটি সর্বোচ্চ 10,000 rpm@ 15 Hp উত্পাদন করতে পারে এবং সর্বাধিক টর্ক 11.7 nm @ 7,700 rpm তৈরি করতে পারে। Ninja 125 এ 6 স্পিড গিয়ারবক্স অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ।এর শীর্ষ গতির ক্ষমতা ঘন্টায় প্রতি 120 কিলোমিটার যা যথেষ্ট ভাল। নিনজা 125 বাইকটির মাইলেজ প্রতি লিটারে 42km ।
৬.Bennett150 :বাংলাদেশে দীর্ঘ সময় আগে চালু হয়েছে। স্পোর্টস বাইক হিসাবে শুরুতে এই বাইকটি নিয়ে অনেক সমালোচনা ছিল।কেননা এটি চাইনিজ বাইক, এটি অন্য বাইকের কার্বন কপি, এটি ব্যয়বহুল ইত্যাদি । তবে ধীরে ধীরে বেনেট ১৫০ ফিরে আসে। বাইকটি সমালোচকদের কাছে শক্ত প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে, যদিও এটি চায়নিচস বাইক, জনসাধারণের প্রতিক্রিয়া অনুসারে এটি 150 সিসি সেগমেন্ট স্পোর্ট বাইকের মধ্যে অন্যতম সেরা বাইক।
বাইকটিতে 149.4 সিসি ইঞ্জিন রয়েছে যা এয়ার কুলড, সিঙ্গেল সিলিন্ডার। বেনেট 150 ইঞ্জিন সর্বাধিক টর্ক 17.3 ন.ম এবং সর্বাধিক শক্তি 19.00 hp, বাইকটি প্রতি ঘন্টা সর্বোচ্চ 120 কিলোমিটার গতিতে চালাতে সক্ষম। বাইকটিতে ভিজে মাল্টি-প্লেট 5 স্পিড গিয়ার রয়েছে। বেনেট 150 প্রতি লিটারে প্রায় 40 কিলোমিটার মাইলেজ বহন করে।
৭.Yamaha R15 v3 :এটি R15 এর নতুন সংস্করণ।ইয়ামাহা বাংলাদেশে ২০১১ সালে তাদের R15 v2 বাজারে এনেছিলো।অনেকটা দীর্ঘ সময় পর ২০১৭ সালে কোম্পানি তাদের নতুন সংস্করণটি R15 v3 বাজারে আনে।এতে সম্পূর্ণ নতুন ইঞ্জিন, নতুন আবয়ব, নতুন রং এবং গ্রাফিক্স এর দারুন সমন্বয়।R15 v3 ভেরিয়েবল ভালভ টাইমিং (ভিভিটি) প্রযুক্তি সহ 155 সিসির তরল-কুল্ড ইঞ্জিন সহ বাজারে আসে।R15 v3 উন্নত মানের টায়ার সহ একগুচ্ছ অধুনিক সুবিধা সম্বলিত বাইক । এতে রয়েছে Daytona race-only exhaust, USB charger সহ আরো অনেক আনুষঙ্গিক সুবিধা।R15 v3 বাইকটি ভারতীয় এবং ইন্দোনেশিয়ান মডেলের পাওয়া যায়।সিসি এবং বাইকের কর্মক্ষমতা অনু্যায়ি দামের দিক দিয়ে ভাল।
বাইকটি একটি 155.1cc ইঞ্জিন, যা সিঙ্গেল সিলিন্ডার। এর সর্বোচ্চ শক্তি 19.3 hp @ 10,000 rpm এবং সর্বাধিক টর্ক 15 nm @ 8500 rpm। এটিতে 6-গতির ম্যানুয়াল গিয়ার রয়েছে এবং এর সর্বোচ্চ গতি প্রতি ঘন্টা 136 কিলোমিটার। এই বাইকের মোট জ্বালানীর ধারণক্ষমতা ১১ লিটার এবং এর মাইলেজ প্রতি লিটার জ্বালানীতে প্রায় 36 কিলোমিটার।
৮.Taro GP1: ভ্যালারিও বাংলাদেশের অন্যতম আকর্ষণীয় বাইক ।এই বাইকটিতে 149.9 সিসি ওয়াটার কুলড ইঞ্জিন রয়েছে।এই বাইকটি তার সর্বাধিক আকর্ষণীয় এবং আকর্ষণীয় স্পোর্টস লুকের মাধ্যমে প্রচুর বাইক প্রেমীদের মন জয় করেছে।তেরো একটি ইতালিয়ান ব্র্যান্ড এবং সাধারণত, এর বাইকগুলি চীনে প্রস্তুত করা হয়।বাহ্যিক চেহারা থেকে আমরা বলতে পারি যে এর নকশা এবং স্টাইলটি অনেকতা আক্রমণাত্মক।দামের দিক দিয়েও ততটা খারাপ না ।
Taro GP1 ভ্যালেরিও 150 সিসির স্পোর্টস মোটরসাইকেলের। এর ইঞ্জিনের স্থানচ্যুতি 149.9 সিসি। ইঞ্জিনটিতে একটি ফোর-স্ট্রোক, সিঙ্গল-সিলিন্ডার, ওয়াটার কুলড ইঞ্জিন রয়েছে ক্যামশ্যাফ্ট ওভারহেড with ওয়াটার কুল ইঞ্জিন যা 14,8 bhp @ 8,500 rpm সর্বাধিক শক্তি এবং 14 nm @ 6,500 rpm সর্বাধিক টর্ক তৈরি করেছে যা 150 সিসি স্পোর্টস মোটরসাইকেলের জন্য যথেষ্ট শক্তি। বাইকে জ্বালানী ট্যাঙ্কটি 13.5-লিটার জ্বালানী বহন করতে পারে।এর মাইলেজ প্রতি লিটা্রে 40 কিলোমিটার এবং শীর্ষ গতি ঘন্টায় 140 কিলোমিটার ।














